English Arabic French German Hindi Italian Portuguese Russian Spanish

পীরগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত : বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশংকা

Print
AddThis Social Bookmark Button

 

1st March, 2013]

 

 

পীরগঞ্জ (রংপুর) উপজেলা সংবাদদাতা : রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালুউত্তোলন চলছে। চলতি মৌসুমে অতি বর্ষণ হলে উপজেলার বেশক’টি গ্রামে ভূমিধসের কারণে বড়রকমের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ। বেশ কয়েকটি স্থানে মাঝেমাঝে মৃদু কম্পনের ফলে ঘর-বাড়ি কেঁপে ওঠে বলেও ভুক্তভোগিরা জানান। সরেজমিনপরিদর্শনে এলাকাবাসী জানান, টুকুরিয়া ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এবং গন্ধর্বপুর গ্রামেদীর্ঘদিন থেকে পরিবেশ নীতি লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের বড় রকমের বিপর্যয়ঘটাচ্ছে এক শ্রেনীর অসাধু মানুষ। ফলে অইসব এলাকায় ভূমিধসের আশংকা করা হচ্ছে। আর এতেক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ৫ গ্রামের প্রায় পনের হাজার সাধারণ মানুষ। টুকুরিয়া ইউনিয়নেরবিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রতাবশালী এক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় কেবল মাত্রগোপিনাথপুর গ্রামে ৬০ বিঘা জমিতে দীর্ঘ ১৫/২০ বছর ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বালুউত্তোলন করা হচ্ছে। ওই বালু মহাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি টাকা আয় করা হয়। যাথেকেকানা কড়িও সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হয় না। দীর্ঘদিনথেকে বালু উত্তোলনের ফলেভূগর্ভস্থ গর্তের সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে ওই বালুমহালের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সহস্রাধিক একর আবাদী জমি ও জনবসতি এলাকা। সূত্র মতে, ওই বালু মহালে প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক প্রতিদিন জনপ্রতি গড়ে ১০০ টাকা করে মোট ৩৫ হাজারটাকা আয় করে। ভূমিধস সম্পর্কে ধারণা না থাকায় এলাকাবাসী ৩৫০ জন শ্রমিকের সাময়িক আয়েসন্তুষ্ট। এদিকে টুকুরিয়া ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের কয়েক ব্যক্তি এবং রায়পুরইউনিয়নেরদু’ব্যক্তি পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে বালু বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থউপার্জন করছেন দীর্ঘদিন ধরে।তাদের সঙ্গে কথা বললে পরিবেশ বিপর্যয় বা ভূমিধস বিষয়েতাদের কোন মাথা ব্যথা নেই বলে জানান। অন্যদিকে পরিবেশবিদদের মতে জনবসতি এলাকায়স্যালো-মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন পরিবেশ আইনের পরিপন্থী এবং ভূগর্ভস্থ সম্পদসম্পূর্ণ সরকারি। তাই এই সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা বা ভোগকরা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। এতো কিছুর পরও আইনগত কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি পীরগঞ্জের বালুউত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে। তাই অভিজ্ঞ মহল জেলা প্রশাসক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থারআশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, এই অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদেরউচ্ছেদ করে পীরগঞ্জে সরকারিভাবেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বালু উত্তোলন করা সম্ভব। তাদেরমতে পীরগঞ্জের উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল ঘেঁষে প্রবাহমান করতোয়া নদী শুধু মাত্রড্রেজিংয়ের অভাবে উপজেলাবাসীর ভাগ্যে অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। করতোয়ায় চর পড়েতার গতি পথ পরিবর্তীত হয়ে অনেক জনবসতি এবং আবাদি জমি বিনষ্ট হয়েছে। প্রতি বছর রংপুরও দিনাজপুর জেলাকে বিভক্ত করে প্রবাহিত করতোয়ার গতিপথ বদলে যাওয়ায় মানচিত্রও বদলেযাচ্ছে এই দুই জেলার। এদিকে করতোয়ার নাব্যতা কমে যাওয়ায় প্রতিবছরই কমবেশি বন্যায়ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছে উপজেলার নিম্নাঞ্চল। কিন্তু সরকারি উদ্যোগেই করতোয়াড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা, বন্যা মোকাবিলা, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিকভিত্তিতে বালু উত্তোলন করা সম্ভব। এতে সরকারের একদিকে যেমন বাৎসরিক কোটি কোটি টাকাআয়ের সম্ভবনা রয়েছে পাশাপাশি এলাকায় ভূমিধসসহ বন্যায় ক্ষতির পরিমাণও কমে যাবেবহুলাংশে। সেই সঙ্গে কৃষিজনপদ পীরগঞ্জে ও নদী ভাঙন জনিত কৃষি ক্ষতি রোধ করেএলাকাবাসীর ভাগ্য বিপর্যয় রোধও সম্ভব হবে। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষেজরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন এলাকার সচেতন মানুষ।

 

 

 

 Source: dailyinqilab

 


 

 

 

 

Add comment


Security code
Refresh

| + - | RTL - LTR