English Arabic French German Hindi Italian Portuguese Russian Spanish

‘হামরা সাহায্য চাই না তিস্তা নদী খনন চাই’

Print
AddThis Social Bookmark Button

 

লেখক: রাজারহাট(কুড়িগ্রাম)সংবাদদাতা  |  মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৩ আশ্বিন ১৪১৯

অবিরাম বর্ষণে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেই সাথে  তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে ৩টি গ্রামের ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে বাঁধের রাস্তাসহ স্পার বাঁধ, বেড়িবাঁধ, ক্রসবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিদ্যানন্দ ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গাবুর হেলান, চর তৈয়ব খা, চর রামহরি, শিয়ালখাওয়া চর, মহাদেব চর, বিদ্যানন্দ চরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২শ’ হেক্টর জমির আমন ধান।

অন্যদিকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরের ২শতাধিক পরিবার। মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। তিস্তার প্রবল সে াতে ভেঙ্গে গেছে চতুরা মন্দির গ্রামের ১৫টি বাড়ি। গৃহহারা পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

কুড়িগ্রাম পাউবো নদী পাড়ে বাঁশের পাইলিং ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু নূর মোঃ আক্তারুজ্জামান ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে ঐসব এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পৌঁছায়নি।

গতকাল সোমবার পানিবন্দি হায়াত খা গ্রামের মন কুমার (৭৫) বলেন, ‘হামরা ২ দিন থাকি পানিত পরি আছি বাহে। তবুও সাহায্য চাই না,  হামরা তিস্তানদী খনন চাই।’ এরকম ভাষ্য নদী পাড়ের সব মানুষের। ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম বলেন, সরকার ড্রেজার দিয়ে নদী খনন করলে ভাঙ্গনের প্রকোপ কমতো এবং নদী পাড়ের মানুষও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারতো।

এদিকে গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, গত ক’দিনেই চোখের সামনে ভেঙ্গে গেল গঙ্গাচড়া-মহিপুর পাকা সড়ক, কবরস্থান, মসজিদ, ব্লক পিচিংসহ আবাদী জমি, বাঁশঝাড়সহ অনেক কিছু। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় বর্তমানে নদী ভাঙ্গন এসে ঠেকেছে তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বাঁধে। ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে পূর্ব কচুয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, নোহালী বড়বাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে গান্নারপাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এলাকার মসজিদের ইট খুলতে ব্যস্ত লোকজন। ঐ এলাকার ২০০ ফুট ব্লক পিচিং ধসে গেছে গত দু’দিনেই। গতকাল ঐ এলাকার জাহেদুল, রুবেল, দুদু মিয়া ও সবুজ বাড়ি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এ সব পরিবার বর্তমানে বিদ্যালয় মাঠে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে করার কিছু নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিক সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভাঙ্গন ঠেকানো যেত। এদিকে বানভাসি লোকজনের জন্য ১০০ মেট্রিকটন খয়রাতী চাল ও ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। গতকাল পর্যন্ত কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

Source : Ittefaq

Add comment


Security code
Refresh

| + - | RTL - LTR