English Arabic French German Hindi Italian Portuguese Russian Spanish

উত্তরাঞ্চলে ২০ লাখ নলকূপে পানি উঠছেনা

Print
AddThis Social Bookmark Button

 

জহুরুল ইসলাম, পাবনা

 

প্রচণ্ড তাপদাহ ও খরার কারণে পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের শস্যক্ষেত, গাছপালা ও জীবকূল পুড়ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় এসব এলাকার খাল, বিল, পুকুর, জলাশয় ও নদীনালা শুকিয়ে গেছে। মানুষসহ প্রাণীকূলের জীবন যেন ওষ্ঠাগত। পানির জন্য হাহাকার চলছে। তীব্র খরায় চরাঞ্চলের হাজার হাজার বিঘা জমির চিনাবাদাম ও তিল পুড়ে যাচ্ছে এবং আম, জাম, লিচুসহ বিভিন্ন গাছের ফল শুকিয়ে অপ্রাপ্ত বয়সেই ঝরে পড়ছে। পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ অগভীর নলকূপ (টিউবওয়েল) থেকে পানি উঠছে না। পাবনা জেলার সাড়ে ১৫ হাজার অগভীর নলকূপ অচল হয়ে যাওয়ায় পাবনা শহরসহ জেলার সর্বত্র বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ বছর পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ খরা ও তাপদাহ চলছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানায়, তাপমাত্রা এবং গরম অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি। চৈত্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ শেষ হলেও এ অঞ্চলে বৃষ্টি নেই। প্রচণ্ড খরা ও তাপদাহে প্রাণীকূলের জীবন ওষ্ঠাগত। উত্তরাঞ্চলের কয়েক হাজার খাল, বিল, পুকুর, জলাশয় ও নদী শুকিয়ে গেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অস্বাভাবিকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বরেন্দ্র এবং কৃষি বিভাগসহ কৃষকদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে কয়েক লাখ গভীর সেচযন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার পানি সেচকাজে উত্তোলন করা হচ্ছে। সূত্রমতে, কোনো কোনো সেচযন্ত্র থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৬৫ হাজার লিটার পানি উত্তোলন করা হয়। এভাবে একটানা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন হলেও বৃষ্টি না হওয়ায় এ পানির ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। ফলে প্রচণ্ড খরায় পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। জেলার জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সাধারণ হস্তচালিত নলকূপ দিয়ে ২৬ ফুট নিচের পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয়, কিন্তু বর্তমানে এ স্তর ৩৫ থেকে ৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এ কারণে উত্তরাঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কমপক্ষে ২০ লাখ হস্তচালিত নলকূপ অচল হয়ে গেছে। পাবনা জেলায় সরকারি পর্যায়ের সাড়ে ১৫ হাজার এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১ লাখ ২৫ হাজার নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামানুর রহমান জানান, গত ৫ মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। তিনি জানান, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা হিসেবে অনেক জায়গায় তারাপাম্প বসানো হয়েছে। তারাপাম্প ৬০ ফুট নিচের ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করতে পারে। এদিকে হস্তচালিত নলকূপ দিয়ে পানি না উঠায় পাবনার আর্সেনিকপ্রবণ সদর, সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়া এবং ঈশ্বরদী উপজেলার কয়েকশ’ গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে আর্সেনিকমুক্ত কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এ পানি সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন জলাশয়, পুকুর এবং নদীনালায় পানি না থাকায় বিভিন্ন প্রাণী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের গোসলের পানির বড়ই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে নানা ধরনের রোগবালাই আক্রমণ করতে পারে বলে গরু-বাছুর পালনকারীরা আশঙ্কা করছেন।

 

 

Source: amardeshonline

 


 

 

 

Add comment


Security code
Refresh

| + - | RTL - LTR